ই-পেপার সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১

নছিমন-করিমন সবই চলে মহাসড়কে

রতন বালো
প্রিন্ট ভার্সন
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫:৩০
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এসব অযান্ত্রিক যানবাহন গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সাভার হেমায়েতপুর এলাকা থেকে তোলা -আমার বার্তা

  • সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রজ্ঞাপন বিফলে যাচ্ছে
  • চাঁদার বদৌলতেই চলছে অযান্ত্রিক যানবাহন
  • দুর্ঘটনার জন্য তিন চাকার যানবাহনকে দায়ী করা হয়

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মহাসড়কে চলছে তিন চাকার ভ্যান, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মিশুক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রভৃতি। ধীরগতির যান (ব্যাটারি চালিত) চলাচলের কারণে মহাসড়কে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার অটোরিকশা, অটোটেম্পোসহ সবধরনের অযান্ত্রিক যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে ২০১৫ সালে। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা মানা হয় না। সারা দেশে ২ লাখ ৫০ হাজার সড়ক মহাসড়ক রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৩ হাজার ৫৭০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

কোনো মহাসড়কে এই নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে না। চাঁদার বদৌলতেই সব মহাসড়কেই কমবেশি নিষিদ্ধ যানবাহন চলছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রায়ই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, তারপরেও দূর হচ্ছে না মহাসড়কে নছিমন-করিমন চলাচল। অযান্ত্রিক যানচলাচলের কারণে ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-ময়মনসিংহসহ ২২ মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয় প্রায়ই। কখনো কখনো দুর্ঘটনার জন্যও ধীরগতির ও তিন চাকার যানবাহনকে দায়ী করা হয়।

শুধু ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেই নয়, দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও তিন চাকার ও ধীরগতির যানবাহন চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশের মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্যে থ্রি-হুইলার অটোরিকশা, অটোটেম্পোসহ সবধরনের অযান্ত্রিক যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর কিছুদিন এসব যান চলাচল বন্ধও ছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, সে সময় সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছিল। সরকার বলেছিল, বাইলেন সড়ক নির্মাণ করার পর ধীরগতির যানবাহন চলতে দেয়া হবে। কোন কোন মহাসড়কে বাইলেন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। তবে বাইলেন সড়ক নির্মাণ করা হয়নি এমন মহাসড়কেও ধীরগতির যানবাহন চলছে। সমস্যা হচ্ছে, কেবল যাত্রী ও পণ্যই পরিবহন করছে না, মহাসড়কে এসব যানের অবৈধ স্ট্যান্ডও গড়ে উঠেছে।

প্রশাসনের নাকের ডগার ওপর দিয়ে ধীরগতির যানবাহন মহসড়কে চলছে কী করে সেটা একটা প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, মাসোহারা দিয়ে এসব নিষিদ্ধ যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ অভিযোগ কখনো স্বীকার করে না। মহাসড়কে নিষিদ্ধ যান চলাচলের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। সড়ক-মহাসড়ক নিরাপদ করতে বিভিন্ন সময় নানান সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা হয় কিনা সেটা একটা প্রশ্ন। কখনো কখনো মহাসড়কে থ্রি-হুইলার অটোরিকশা, নসিমন-করিমন, লেগুনা প্রভৃতি চলাচলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান শেষ হতে না হতেই মহাসড়ক পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভার হেমায়েতপুর এলাকায় কথা হয় মো. সুমন মিয়ার (২৫) সঙ্গে। তিনি গাবতলীর পার্শ্ববর্তী আমিন বাজার থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার নবীনগর পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশা চালান প্রতিদিন। মহাসড়কে রিকশা চলাচল নিষেধ। এরপরও তিনি রিকশা কিভাবে চালাচ্ছেন জানতে চাইলে বলেন, পুলিশ মাঝে মধ্যে ধরে, কিন্তু টাকা দিলেই ছেড়ে দেয়।

অপর রিকশা চালক মঈন উদ্দীনও (৩০) এই মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালান। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন আছে, বাস্তবায়ন নেই। আর টাকার কাছে আইন বলতে কিছু নাই। বিষয়টি খোলাসা করে তিনি বলেন, প্রতিদিন ২০ টাকা করে পুলিশকে দিয়ে মহাসড়কে রিকশা চালাই। এ রকম আমিনবাজার- হেমায়তপুর ও নবীনগর এলাকায় প্রায় ৫ হাজার রিকশা চলাচল করছে।

মঈনের দেয়া তথ্যমতে, প্রতিদিন প্রতি রিকশা ২০টাকা হলে ৫ হাজার রিকশায় ১ লাখ টাকা। ৩০ দিনে ৩০ লাখ টাকা অবৈধ চাঁদা বাণিজ্য করছে পুলিশ। চাঁদার বদৌলতেই মহাসড়কে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, নছিমন, করিমসহ সবই চলে।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাস স্ট্যান্ডে কথা হয় অটোরিকশা চালক রহমান আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে ৫-৭ দিন প্রশাসনের কড়াকড়ি ছিল। বলতে গেলে এখন সব শিথিল হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই আমরা সবাই মহাসড়কে অটোরিকশা নিয়ে যাচ্ছি। বিনিময়ে অটোরিকশা প্রতি প্রতিদিন ৩০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। এ রকম অটোরিকশা আছে প্রায় ৩ হাজার।

রহমান আলীর হিসেব মতে অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন অবৈধ চাঁদা তুলছে ৯০ হাজার টাকা। মাসে ৯ লাখ টাকা। শুধু ব্যাটারি চালিত রিকশা আর অটোরিকশা নয়। হ্যালো বাইক, নছিমন, করিমন, ঠেলাগাড়ি, ভ্যানসহ সব ধরনের নিষিদ্ধ ধীরগতির ছোট যান চলছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে।

গত শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আমিনবাজার-হেমায়েতপুর-সাভার ও নবীনগর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সরজমিনে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব চিত্র অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ১০ মিনিট হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে অবস্থানকালে দেখা গেছে, হেমায়েতপুর থেকে সাভার, নবীনগর ও আমিনবাজার পর্যন্ত এসব ব্যাটারি চালিত রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ি চলতে দেখা গেছে। ১০ মিনিটে এই তিনটি স্থানে প্রায় পঞ্চাশের অধিক অটোরিকশা ছেড়ে গেছে। হেমায়েতপুর এখন অটোরিকশা ও রিকশার স্থায়ী স্ট্যান্ড হিসেবে পরিণত হয়েছে।

সাভারের ব্যাংক কলোনি স্ট্যান্ডেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। তবে সেখানে ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিপত্য বেশি বলে মনে হয়েছে। সাভার স্ট্যান্ডেও শত শত রিকশা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গেট ও নবীনগরের ২০ মাইল এলাকা জুড়ে একই চিত্র চোখে পড়েছে। সব মিলে রিকশা ও অটোরিকশার দখলে রয়েছে মহাসড়ক।

হেমায়েতপুর মোড়ে কর্তব্যরত মো. আরিফ নামের এক ট্রাফিক পুলিশ বলেন, রিকশা ও অটোরিকশার পরিমাণ গত ৫ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। সে হারে আমাদের জনবল বাড়েনি। একদিকে আটকালে অন্যদিক মহাসড়কে উঠে যাচ্ছে রিক্শা ও অটোরিকশাগুলো। লোক সংকটের কারণে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। তা ছাড়া বিআরটিএ থেকেও তেমন কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।

এ চিত্র শুধু ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেই নয়, ঢাকা-গাজীপুর, টাংগাইল, মহয়নসিংহ, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লাসহ প্রায় সব মহাসড়কেই এসব যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক নিষিদ্ধ ধীরগতির যান চলাচল করছে। এ ব্যাপারে সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রসঙ্গে কোনো সাড়া দেন না।

এদিকে ২০১৫ সালের ১ আগস্ট থেকে জাতীয় মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ সবধরনের অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর পর থেকে নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল বন্ধে সারা দেশে অভিযান পরিচালনা শুরু করে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও জেলা প্রশাসন।

তবে বিআরটিএ দাবি করেছে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল বন্ধে বিআরটিএর ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আগে থেকেই ছিল। ২০০৬ সাল থেকে ব্যাটারিচালিত নছিমন, করিমন, ভটভটি চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। নতুন করে নিষিদ্ধ হয়েছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা।

২০১৫ সালের ২৭ জুলাই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রজ্ঞাপণে, সড়কের নিরাপত্তা বিধানে সব জাতীয় মহাসড়কে থ্রি হুইলার অটোরিকশা/অটোটেম্পো এবং সব ধরনের অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ এবং একই বছরে ১ আগস্ট শনিবার থেকে তা কার্যকর করা হলেও বাস্তবে তা চোখেই পড়ছে না।

এর আগে একই বছরের ২২ জুলাই সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে এক সভায় মহাসড়কে অটোরিকশা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মহাসড়কে নতুন উপসর্গ সিএনজি অটোরিকশা। যা দ্রুত দুর্ঘটনায় পড়ে। এগুলো মহাসড়কে খুব বেশি হারে চলে এসেছে। এসব অটোরিকশাই বেশি দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাই দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কগুলোতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আট বছর পরেও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর আছে সরকার। প্রয়োজনে আরো কঠোর হবে।

আমার বার্তা/এমই

গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী পদ পেতে ২০ কোটি টাকার মিশনে!

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে আছেন মোহাম্মদ শামীম আখতার। তার চাকরির মেয়াদ আছে আরো প্রায়

ঈদে ঘরে ফেরায় নৌপথে হবে স্বস্থির যাত্রা

    ৬১ টি ড্রেজার কাজ করছে     কোন রুটেই নাব্যতা সংকট নাই আসন্ন ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে

ঈদযাত্রায় রাজধানীর ৭ মুখেই ভোগান্তি

আসন্ন ঈদযাত্রায় রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার ৭ মুখেই যানজটের শঙ্কায় ভুগছে ঢাকাবাসী। শুধু রাজধানী

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গত সোমবার (১ এপ্রিল) একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় “গণপূর্তে নিয়োগ সিন্ডিকেট”
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চমক রেখে এক হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ-ইনস্টাগ্রাম 

বিশ্বে দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় ঢাকা

সিলেটে বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

বায়ার্ন রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে জার্মানির চ্যাম্পিয়ন লেভারকুসেন 

আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যায় ৩৩ জনের মৃত্যু

মোবাইলে এক মাসে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন

ইরানের কট্টরপন্থী নীতি ও শীর্ষ পর্যায়ে মতবিরোধ

আজ থেকে ব্যাংকে লেনদেন ১০টা-সাড়ে ৩টা

ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলায় জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকায় ফিরছে কর্মজীবী মানুষ, গণপরিবহনের ভোগান্তি

ইসরায়েলে হামলার আগে সতর্ক করা হয়েছিল: ইরান

১৫ এপ্রিল ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা

জাহাজে আর্মড গার্ড থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না

এমভি আবদুল্লাহকে জি‌ম্মি করা ৮ সোমালিয়ান জলদস্যু গ্রেপ্তার

৫ মিলিয়ন ডলারে মুক্তি পেয়েছে এমভি আব্দুল্লাহ

আরেকটি যুদ্ধের ভার বহন করতে পারবে না বিশ্ব

পাল্টা হামলা হলে প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ, হুঁশিয়ারি ইরানের

টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ঢুকলো ৯ বিজিপি সদস্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৩ শ্রমিকের মৃত্যু

মুক্তিপণের বিষয়ে কথা না বলতে অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে