ইইউ ও ব্রিটিশ স্থাপনায় রাশিয়ার হামলায় খুশি নন ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১০:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন।/ ছবি: এএফপি

ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত এই হামলাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করার একটি পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান টিমুর টাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, রাজধানী কিয়েভে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছে। রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলছিল।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ট্রাম্প এই খবর শুনে অখুশি হলেও অবাক হননি, কারণ দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ করছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এই হামলাটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া কর্তৃক পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর দ্বিতীয় বৃহত্তম হামলা।

মার্কিন বিশেষ দূত কিথ কেলগ এক্স প্ল্যাটফর্মে মন্তব্য করেছেন, লক্ষ্যগুলো কী? সেনা বা অস্ত্র নয়, বরং কিয়েভের আবাসিক এলাকা - বেসামরিক ট্রেন, ইইউ ও ব্রিটিশ মিশন কাউন্সিলের কার্যালয় এবং নিরীহ বেসামরিক নাগরিকরা।

এই হামলার প্রতিবাদে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। তবে কোনো স্থান থেকেই হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জেলেনস্কি আরও জানান, হামলায় একটি তুর্কি প্রতিষ্ঠান ও আজারবাইজান দূতাবাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লিভিট এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ট্রাম্প এই পরিস্থিতি নিয়ে পরে আরও কিছু বলবেন।

লিভিট বলেন, রাশিয়ার হামলাগুলো ছিল প্রাণঘাতী এবং ইউক্রেনের হামলাগুলোও আগস্ট মাসে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

তিনি বলেন, সম্ভবত এই যুদ্ধের উভয় পক্ষই নিজেরা এটি শেষ করার জন্য প্রস্তুত নয়। প্রেসিডেন্ট এটি শেষ করতে চান, কিন্তু এই দুই দেশের নেতাদের এটি শেষ করা দরকার।

ট্রাম্প আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যে শীর্ষ সম্মেলন করেছিলেন, তার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই হামলাগুলো ঘটেছে। ট্রাম্প আশা করেছিলেন সেই বৈঠক তার শান্তি প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

জেলেনস্কি এক্স প্ল্যাটফর্মে বলেন, রাশিয়া আলোচনার টেবিলের পরিবর্তে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে বেছে নিচ্ছে। তিনি রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।

রাশিয়া বলেছে, তাদের হামলায় সামরিক-শিল্প বিষয়ক স্থাপনা ও বিমান ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে এবং ইউক্রেনও রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা এখনও শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।


আমার বার্তা/এমই