পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ ঈদ: প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৯:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ
জাহিদুল আলম,ঢাকা:

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে আশেকে রাসুল জেনারেল অফিসিয়ালস অর্গানাইজেশন (আর্গো)-এর উদ্যোগে ‘শান্তির দূত হযরত মোহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর জীবনাদর্শ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর কাকরাইল রোডস্থ আইডিইবি মিলনায়তনে সরকারি-বেসরকারি পেশাজীবীদের নিয়ে এই সেমিনারটি হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মোহাম্মদী ইসলামের নেত্বত্ব প্রদানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) হচ্ছে সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ ঈদ। হযরত রাসুল (সা.)-এর শুভ জন্ম দিনে যারা খুশি হন, মহান আল্লাহ্ তাদের ক্ষমা করে দেন। এই ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) ১৯৯৬ সাল থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশে উদ্যাপন করা হচ্ছে। মহান সংস্কারক হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা (রহ.) হুজুরের প্রস্তাবে বাংলাদেশ সরকার এই দিনটি সরকারিভাবে ছুটি ঘোষণা করেন এবং বর্তমানে দিনটি উদ্যাপনে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।
ইমাম ড. কুদরত এ খোদা বলেন, হযরত রাসুল (সা.)-এর শুভজন্ম এবং ওফাত একই দিনে - সমাজে এমন ভুল ধারনা প্রচলিত আছে। এই প্রেক্ষাপটে হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা (রহ.) পবিত্র কুরআন, হাদিস ও ঐতিহাসিক তথ্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন, হযরত রাসুল (সা.)-এর ওফাত দিবস ১লা রবিউল আউয়াল। কারণ তিনি বিদায় হজের ৮১ দিন পর ওফাত লাভ করেছিলেন। কিন্তু ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে ১২ রবিউল আউয়ালকেই হযরত রাসুল (সা.)-এর ওফাত দিবস হিসেবে গণনা করা হচ্ছে। এতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের জন্মদিনে আনন্দিত হতে না পেরে মুসলিম জাতী অবারিত রহমত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্বনবি হযরত মোহাম্মদ (সা.) হলেন সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। মহান আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিজগতের রহমত হিসেবে এ মহামানবকে প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কুরআনে হযরত রাসুল (সা.)-এর আদর্শ সম্বন্ধে মহান আল্লাহ্ বলেন, “তোমাদের জন্য হযরত রাসুল (সা.)-এর মধ্যে রয়েছে সুন্দরতম আদর্শ।” হযরত রাসুল (সা.)-এর জীবনাদর্শ গোটা মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। আজকের এই সেমিনারে দয়াল রাসুলের শুভাগমন থেকে শুরু করে তাঁর বর্ণিল জীবনের বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে। যেগুলো দয়াল রাসুল (সা.)-এর সুমহান শিক্ষা, আদর্শ ও মর্যাদার বিষয় জানার সুযোগ করে দিয়েছে।
সেমিনারে বক্তারা ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.)-কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) ধুমধামের সাথে পালন করলে মহান আল্লাহ্ ও হযরত রাসুল (সা.) আমাদের ওপর খুশি হবেন। ‘ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.)’ হচ্ছে হযরত রাসুল (সা.)-এর জন্মের খুশি। এই খুশির দিনে যারা খুশি হন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন তাদের ওপর সন্তুষ্ট হবেন।
সেমিনারে বক্তব্য প্রদান করেন সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. পিয়ার মোহাম্মদ, বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. জাকীর হোসেন, সাবেক যুগ্ম সচিব মো. নুরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আহসানুল হাদী, প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাছান, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল আজিজ খলিফা, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. ফারুকুল ইসলাম, হযরতুল আল্লাম মুহাদ্দেছ এমরান হোসাইন মাজহারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান প্রমুখ। বক্তারা দেশবাসীর সবাইকে মহাধুমধামের সাথে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উদ্যাপনের আহ্বান জানান। সেমিনারটি উপস্থাপনা করেন পিইউবির সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন সোহেল।
শেষ পর্বে প্রধান অতিথি ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর তাঁর মূল্যবান ভাষণ প্রদান করে বিশ্ববাসীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন।